1. bangladeshbartatelevision@gmail.com : admin :
  2. ridoyhasanjoy@gmail.com : Reporter-1 :
  3. journalistrhasan@gmail.com : Reporter-2 :
  4. bangladeshbarta1@gmail.com : Reporter-3 :
  5. abdullah957980@gmail.com : Ramjan Bhuiyan : Ramjan Bhuiyan
প্রধান খবর
ষাটনল পর্যটনের জন্য সবচেয়ে আকর্শনীয় জায়গা কুড়িগ্রামে ১ হাজার দরিদ্র পরিবারের মাঝে খাদ্য বিতরণ সিরাজগঞ্জে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তার খামখেয়ালিতে বয়স্ক ভাতার টাকা চুরি গুরুদাসপুর হাসপাতালে ভাংচুরের ঘটনায় ১০ জনের নামে মামলা,আটক-৪ নওগাঁয় আম পাড়তে গিয়ে বিদ্যুৎ স্পর্শে ইউপি সদস্যের মৃত্যু নওগাঁয় পুকুরের পানিতে ডুবে ভাই-বোনের মর্মান্তিক মৃত্যু গোমস্তাপুরে মহানন্দা নদী থেকে রইসউদ্দিন নামের এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার সিরাজগঞ্জে মসজিদের তার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎপৃষ্টে চোর নিহত কালকিনি কৃষি বিভাগের ব্যাপক উন্নয়ন দেখতে বিভিন্ন জেলার কৃষকদের কৃষিভ্রমণ নাগেশ্বরীতে সাংবাদিক রবিউল ইসলাম তার পিতার উপর সন্ত্রাসী হামলা

ওষুধ ফার্মেসীতে বিক্রয় হচ্ছে ইয়াবার বিকল্প – বাংলাদেশ বার্তা

  • Sunday, February 7, 2021
  • 46 বার পড়া হয়েছে

মো.শাহীন সাগর, বিশেষ প্রতিনিধি রাজশাহী:

মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মাদকবিরোধী অভিযান মাদক ব্যবসায়ীদের ধরপাকড়ের কারণে ফেনসিডিলসহ অন্যান্য মাদকের সরবরাহ অনেকটাই কমে গেছে। মাদক সরবরাহ কমে যাওয়ায় নেশার বিকল্প খুঁজতে রাজশাহীতে মাদকসেবীরা ছুটছে ওষুধের দোকানে। মাদকসেবী ও কিশোর অপরাধীরা ফেনসিডিল, ইয়াবা, হেরোইন নেশার বিকল্প হিসেবে বেছে নিয়েছে নিষিদ্ধ ঘোষিত ব্যথানাশক, ঘুমের ট্যাবলেট ও সিরাপ।

অভিযোগ উঠেছে কিছু অসাধু কোম্পানি বাজার ধরে রাখতে কৌশল অবলম্বন করে ব্যথানাশকের নামে নেশা জাতীয় ক্যাফেইন দিয়ে তৈরি ট্যাবলেট বাজারজাত করে আসছেন। তারা যে ওষধগুলি বিপণন করছেন সেগুলি হচ্ছে ইনসেপ্টা কোম্পানীর সেন্টাডল, হেলথ কেয়ারের সিন্টা, এসিআই-র লোপেন্টা, স্কয়ারের পেন্টাডল, অপসোনিনের টাপেন্ডল, এসকেএফ এর টাপেন্টা ট্যাবলেট ও ডাপেস্টা নামের ঘুমের ট্যাবলেট। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর ট্যাপেন্টাডল গ্রুপের সকল ট্যাবলেট গত ১৪ জানুয়ারি ২০ তারিখে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পাইকারী ও খুচরা ফার্মেসিতে ৩১ জানুয়ারি ২০ তারিখের পর বিক্রয় নিষিদ্ধ করেছেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রস্তাব আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের সুপারিশের ভিত্তিতে গত ৯ জুন সরকার ট্যাপেন্টাডল গ্রুপের ট্যাবলেট নিষিদ্ধ করে এবং সেটিকে ‘খ’ শ্রেণির মাদক হিসেবে তফসিলভুক্ত করা হয়েছে।

নিষিদ্ধ ঘোষনার পরও শহর বন্দর থেকে গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন ওষধের দোকানে সহজেই মিলছে এই নিষিদ্ধ ট্যাবলেট। মাদক সেবীরা প্রেসক্রিপশন ছাড়াই এগুলো ৪ গুন দামে কিনে ২টি পদ্ধতিতে সেবন করছে। ১ম পদ্ধতি: ট্যাপেন্টা, লোপেন্টা, সেন্টাডল, পেন্টাডল ট্যাবলেটগুলি এলোমুনিয়ামের ফয়েলের উপর রেখে নিচ থেকে আগুনের তাপ দিয়ে ওটাকে গলিয়ে সেখান যে ধোঁয়া বের হয় তা একটা নলের মাধ্যমে মুখ দিয়ে গ্রহণ করেন।

২য় পদ্ধতি: সিনামিন সিরাপের সঙ্গে ৩/৪ টি টপেন্টাডল গ্রুপের ট্যাবলেট গুঁড়ো করে সিরাপে মিশিয়ে তারপর সেবন করে মাদকাসক্তরা। এগুলো সেবনের পর মুহূর্তেই স্নায়ুতন্ত্রে গিয়ে সরাসরি প্রভাব ফেলতে শুরু করে। যার কারণে শরীর চাঙা হয়, রাতের পর রাত জেগে থাকা যায়, যৌন উদ্দীপনা বেড়ে যায় এবং বিচরণ করা যায় কল্পনার রাজ্যে। এরকমই অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন কয়েকজন মাদকাসক্ত ও কিশোররা। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ইয়াবা ও হেরোইনের বিকল্প হিসেবে উঠে এসেছে ৮টি ব্যথানাশক ট্যাবলেটের নাম। ওষধ দোকানীদের কাছে এসব ট্যাবলেটের চাহিদা বেড়েছে ৮ থেকে ১০ গুন।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ৫০,৭৫ ও ১০০ মিলিগ্রামের ট্যাপেন্টাডল গ্রুপের ট্যাবলেট চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই ৩/৪ গুন বেশী দামে বিক্রি করছেন ফার্মেসীর দোকানদাররা। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাদকের বিরুদ্ধে তৎপর থাকায় মাদক সেবনকারীরা নেশা ও ঘুমের চাহিদা মেটাতে এই ওষধগুলি সেবন করছেন। মাদকসেবীদের পাশাপাশি কিশোর গ্যাং এর সদস্যরাও এই ট্যাবলেট সেবনে পিছিয়ে নেই। ফলে বর্তমান সময়ে বেড়েছে নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক শ্রেণির ওষধ বিপণনকারী লোকজন গোপনে ওষুধের দোকানগুলােতে মালিক-কর্মচারীদের রাতারাতি ধনী হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে ওষধ সরবরাহ ও প্রচারণা চালাচ্ছেন। দোকানীরা সরবরাহ করা এসব ওষধ তিন চার গুন দামে বিক্রয় করছেন। গত বছরের ১৪ নভেম্বর শনিবার রাজশাহী মেট্রোপলিটন (আরএমপি) এলাকার কাশিয়া ডাঙ্গা থানাধীন পদ্মার এপারে বসরি এলাকার আইবাঁধ থেকে ভারতে পাচারের জন্য নেওয়া ২১ লাখ টাকা মূল্যের ১১ হাজার ২০০ পিস নিষিদ্ধ নতুন মাদক ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ পবা উপজেলার ভারতীয় সীমান্ত সংলগ্ন চর মাজারদিয়া গ্রামের রুবেল হোসেন (৩০)কে আটক করেছে কাশিয়া ডাঙ্গা থানা পুলিশ। তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
মাদক সেবনকারী ও কিশোরদের কাছে দিন দিন নেশার বিকল্প এসব ওষধের চাহিদা বাড়ায় তা সহজেই ছড়িয়ে পড়ছে মাদক সেবনকারী ও কিশোরদের মাঝে। নিরাপদে ও সহজলভ্য হওয়ায় এসব ট্যাবলেটই বর্তমানে মাদকসেবি ও কিশোরদের কাছে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে । জেলা ও উপজেলার নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের দোকানগুলােতে মাদকসেবনকারী ও কিশোর গ্যাং সদস্যদের আনাগােনা লক্ষ্য করা গেছে। রাজশাহী মহানগরীসহ জেলার চারঘাট, গোদাগাড়ী, তানোর, মোহনপুর, বাগমারা, দূর্গাপুর, পুঠিয়া, পবা উপজেলার বিভিন্ন ওষধের দোকানে ব্যবস্থাপত্র ছাড়ায় ওইসব ওষুধ দেদারছে বিক্রয় হচ্ছে। নেশাজাতীয় ট্যাবলেট কিনতে আসা একাধিক সেবনকারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা পেন্টাডল, টাপেন্টা, সিনটা, লোপেন্টা, সিনটাডল নামের কিছু ব্যথানাশক ওষুধকে মাদকের বিকল্প হিসেবে সেবন করছে। এসব ট্যাবলেট সেবনে মাদকের মতোই নেশা হয় বলে একাধিক মাদক সেবনকারীদের থেকে জানা গেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ওষুধের দোকান মালিক জানান, মাদকসেবিরা ব্যথানাশক ট্যাবলেট কেনার কারণে এবং চাহিদা বাড়ায় এসব ট্যাবলেটের খুচরা মূল্য ২৫-৩০ টাকা হলেও প্রতিপিস ১০০ এমজি ট্যাবলেট থেকে ২২০ টাকা দামে বাজারে বিক্রি হচ্ছে। দেদারসে এসব ওষধ বিক্রি হলেও লোকবলের অভাবে ওষধ প্রশাসন অধিদপ্তর তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে পারছেনা। এসব ওষধ প্রেসক্রিপশন ছাড়াই মাদকসেবী ও কিশোরদের মাঝে ১ পাতা (১০ টি ট্যাবলেট ) বা এক বক্স বিক্রয় করা হচ্ছে। বেশ কিছুদিন থেকে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হলেও এসব ওষধ বিক্রেতাদের কেউ ধরা পড়েনি।

এ বিষয়ে মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো.আরিফুল কবির জানান, ‘পেন্টাডল ও টাপেন্টা’ ট্যাবলেট দুটি মুলত দূরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্তদের ঘুম ও শরীরের ব্যথা নিরাময়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা লিখে থাকেন। কিন্তু কোনো সুস্থ মানুষের জন্য এ ওষুধ ব্যবহার করা ঠিক নয়। যারা নিয়মিত ব্যবহার করেন তারা মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে।

রাজশাহী জেলা ড্রাগ সুপার বলেন, নাঈম গোলদার জানান,লোকবলের অভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে পারছিনা। ব্যবস্থাপত্র ছাড়া কোনো ওষুধ বিক্রি করা যাবেনা। অবৈধ ওষুধ বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে শীঘ্রই ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হবে।
রাজশাহী জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হেড কোয়াটার)ইফতে খায়ের আলম জানান, মাদকসেবী ও কিশোর অপরাধীদের পুলিশ আটক করছে। পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযান বাঁচতে ইয়াবা এবং হেরোইনের বিকল্প হিসেবে ওষুধের দোকান থেকে বিনা প্রেসক্রিপশনে এসব ওষধ কিনে সেবন করছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

এ ব্যাপারে সচেতন মহল অনেকেই ওষধ প্রশাসন দপ্তরের উদাসীনতাকে দায়ী করছেন। তারা মনে করছেন বিভিন্ন জায়গায় যত্রযত্র লাইসেন্সবিহীন ওষুধের দোকান তৈরি এবং এসবের কোন মনিটরিং না থাকায় ওষধ ব্যবসায়ীরা অধিক মুনাফার আশায় যুব সমাজ ধ্বংসের জন্য এসব ওষুধ বিক্রি করছেন। হাতের নাগালে এসব ওষধ পাওয়ায় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও দিন দিন এই নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছেন। যুব সমাজকে রক্ষার্থে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন সচেতন মহল।

ভালো লাগলে এই পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই কেটাগরির আরো খবর

MD

Customized BY NewsTheme