1. bangladeshbartatelevision@gmail.com : admin :
  2. ridoyhasanjoy@gmail.com : Reporter-1 :
  3. journalistrhasan@gmail.com : Reporter-2 :
  4. bangladeshbarta1@gmail.com : Reporter-3 :
  5. abdullah957980@gmail.com : Ramjan Bhuiyan : Ramjan Bhuiyan
প্রধান খবর
ষাটনল পর্যটনের জন্য সবচেয়ে আকর্শনীয় জায়গা কুড়িগ্রামে ১ হাজার দরিদ্র পরিবারের মাঝে খাদ্য বিতরণ সিরাজগঞ্জে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তার খামখেয়ালিতে বয়স্ক ভাতার টাকা চুরি গুরুদাসপুর হাসপাতালে ভাংচুরের ঘটনায় ১০ জনের নামে মামলা,আটক-৪ নওগাঁয় আম পাড়তে গিয়ে বিদ্যুৎ স্পর্শে ইউপি সদস্যের মৃত্যু নওগাঁয় পুকুরের পানিতে ডুবে ভাই-বোনের মর্মান্তিক মৃত্যু গোমস্তাপুরে মহানন্দা নদী থেকে রইসউদ্দিন নামের এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার সিরাজগঞ্জে মসজিদের তার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎপৃষ্টে চোর নিহত কালকিনি কৃষি বিভাগের ব্যাপক উন্নয়ন দেখতে বিভিন্ন জেলার কৃষকদের কৃষিভ্রমণ নাগেশ্বরীতে সাংবাদিক রবিউল ইসলাম তার পিতার উপর সন্ত্রাসী হামলা

একজন কিংবদন্তি নেতার বিদায় ১৭ ফেব্রুয়ারি : শোকার্ত বিকেলের গল্প-বাংলাদেশ বার্তা

  • Wednesday, February 17, 2021
  • 151 বার পড়া হয়েছে

আশরাফ আলী ফারুকী,গফরগাঁও(ময়মনসিংহ)প্রতিনিধি:

১৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৭ সাল। নন্দিত জননেতা আলতাফ হোসেন গোলন্দাজ এমপি সাহেব বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। এ খবরটি ছড়িয়ে পরলে মুহূর্তেই বৃহত্তর ময়মনসিংহের আমজনতার মনে শোকের ছায়া নেমে আসে। তাঁর নির্বাচনী এলাকা গফরগাঁওয়ে স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও থমকে যায়। পিনপতন নীরবতায় শোকে আচ্ছন্ন জনতা বুকে পাথর চাপা দিয়ে প্রিয় নেতার মরদেহের জন্য অপেক্ষা করে- কখন আসবেন তিনি, শেষবারের মতো দেখবেন তাদের কিংবদন্তি নেতার মুখ। সেদিন আমজনতার বেদনার্ত মুখ দেখেই বুঝা গেছে,তারা তাদের নেতাকে কতটা ভালোবাসতেন।

আলতাফ গোলন্দাজের মৃত্যুর সংবাদ শুনার সাথে সাথেই তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা আজকের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। তাঁর নির্দেশেই সেদিন সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের নেতৃত্বে মাহবুবুল আলম শাকিল, সাজ্জাদ হোসেন শাহীন সহ ঢাকা থেকে একদল নেতা কর্মী জানাজায় অংশ নিতে ছুটে আসেন গফরগাঁওয়ে। ময়মনসিংহ জেলার আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দসহ গফরগাঁওয়ের দলমত নির্বিশেষে সকলেই জানাজায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে ছিলেন জাতীয় পার্টির নেতা মাওলানা হাবিবুল্লাহ বেলালী,গফরগাঁয়ের বিএনপির সভাপতি ফজলুর রহমান সুলতানসহ স্থানীয় হাজার হাজার নেতৃবৃন্দ।

সময়টা ছিল ইয়াজউদ্দিন-ফকরুদ্দিন-মঈনুদ্দিনের সামরিক শাসনকাল। উপজেলার মোড়ে মোড়ে টহলরত ছিল সেনাবাহিনীর সদস্যরা। সর্বত্র মানুষের মধ্যে ছিল অজানা আতঙ্ক ও ভয়। অধিকাংশ নেতাকর্মীরা ছিল ঘর ছাড়া পলাতক। অথচ সেদিন জনতার বাঁধভাঙা জোয়ারে কিংকর্তব্যবিমূঢ় ছিল টহলরত জোয়ানরা! ঠাঁয় দাঁড়িয়ে ছিল বিষন্নচিত্তে। কাউকে কিছুই বলেননি তারা। বরং তারাও বাড়িয়ে দিয়েছিল সহযোগিতার হাত। মুহূর্তের মধ্যেই গোটা পৌরশহর ভরে গিয়েছিল শোকার্ত মানুষের স্রোতের তরঙ্গে। শহরের কোথাও ছিলনা তিল ধারণের ঠাঁয়।

তিন তিনবার নির্বাচিত প্রয়াত সংসদ আলতাফ হোসেন গোলন্দাজের মরদেহ বাগুয়া তার নিজ বাড়িতে আনা হলে জনতার আত্মচিৎকারে বাতাস ভারী হয়ে যায়। সৃষ্টি হয় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের। আত্মীয়-স্বজনসহ হাজারো ভক্ত প্রিয়নেতার মুখ একনজর দেখার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েন।

পড়ন্ত বিকেলে আলতাফ হোসেন গোলন্দাজের মরদেহ জানাজার উদ্দেশ্যে নিজ বাড়ি থেকে গো-হাটা ময়দানে নিয়ে আসা হয়। তখন বিশাল গোহাটা ময়দান জনসমুদ্রের আকার ধারণ করে। বাগুয়া থেকে জামতলা মোড় হয়ে উপজেলা পরিষদ, স্টেশন থেকে মধ্যবাজার হয়ে আলতাফ গোলন্দাজ ডিগ্রি কলেজ ও শিবগঞ্জ থেকে শহীদ জব্বার চত্বর পর্যন্ত তখন লোকে লোকারণ্য। কোথাও তিল দাঁড়ানোর স্থান ছিল না। তখনও ময়মনসিংহ ত্রিশাল ভালুকা শ্রীপুর নান্দাইল হোসেনপুর কিশোরগঞ্জ থেকে দলে দলে লোক আসছিল। একসময় কানায় কানায় ভরে যায় গোটা পৌরশহর আশপাশের এলাকা। গফরগাঁওয়ের ইতিহাসে এত বড় জানাজা নামাজ ইতোপূর্বে কেউ দেখেননি কখনও।

যতই সময় গড়িয়ে যাচ্ছে ততই তিনি ( প্রয়াত উপজেলা চেয়ারম্যান (একবার) ও তিন বারের জাতীয় সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন গোলন্দাজ গফরগাঁওয়ের মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায় স্থায়ী আসন করে নিচ্ছেন। জীবিত আলতাফ হোসেন গোলন্দাজের চেয়ে মৃত আলতাফ হোসেন গোলন্দাজ যে বেশি শক্তিশালী তা আজ প্রমাণিত। মানুষের স্মৃতিতে তিনি আজও অম্লান। গফরগাঁয়ের মানুষের মুখে মুখে এখনো তার নাম। একদা যে প্রিয় নামে ছিল মানুষের ধ্যান-জ্ঞান।

প্রয়াত আলতাফ হোসেন গোলন্দাজ ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের মূর্ত প্রতীক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার পরীক্ষিত ও আস্থাভাজন নেতা। তিনি আজ হয়তো শারীরিকভাবে আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু তার চেতনা রয়ে গেছে। এবং রয়ে গেছে ভালোবাসার অম্লান স্মৃতি। যা বুকে ধারণ করে তার স্নেহধন্য কর্মীরা দুর্নিবার,দল অন্তপ্রাণ ,সোচ্চার এবং আজও নিবেদিতপ্রাণ। তার শিক্ষাই তারা আজও এগিয়ে চলছেন বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ গড়ার প্রত‍্যয়ে।

আলতাফ হোসেন গোলন্দাজের মৃত্যু সংবাদে শোনার সাথে সাথে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা শ্রদ্ধা জানাতে ছুটে আসেন নাখালপাড়া ১নং ন্যাম ভবনের নিচতলায়। এ সময় তার সাথে ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী, সংসদের চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ, জামালপুরের আতিকসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। এ সময় মরহুমের সহধর্মিনী মাহফুজা গোলন্দাজ, ফুয়াদ গোলন্দাজ, ফাহমী গোলন্দাজ বাবেলসহ নিকট আত্মীয় স্বজন। শেখ হাসিনা তখন মরদেহর সামনে নিরর হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন কিছুক্ষণ। পরমকরুণাময়ের কাছে তার মাগফেরাতের জন্য দোয়া করেন। শেখ হাসিনা চলে যাওয়ার পর তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় বঙ্গবন্ধু এভিনিউ দলীয় কার্যালয়ের সামনে। সেখানেই প্রথম তার জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্যসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

তিনি আজ হয়তো নেই কিন্ত তাঁর হাতে গড়া সংগঠন আওয়ামী লীগ আজ বাংলাদেশের উদীয়মান সূর্য। আর এ সূর্যকে আরও প্রোজ্জ্বল আলোকিত করে তুলছেন তাঁরই রক্তের উত্তরাধিকার তরুণ প্রজন্মের অহংকার ফাহমী গোলন্দাজ বাবেল এমপি। পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে তারই পথে হেঁটে চলেছেন দক্ষতা ও বুকের ভেতর অগণতি স্বপ্ন নিয়ে। মানুষের ভালোবাসায় আপ্লুত হয়ে জনতার রায়ে একবার উপজেলা চেয়ারম্যান ও দুই বার বিপুল ভোটে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তারই আত্মজ। ইতোমধ্যেই নিজেকে গড়ে তুলেছেন তরুণ প্রজন্মের আইকন হিসেবে। নতুন প্রাণ সঞ্চালন করেছেন সংগঠনের মধ্যে। বর্তমানে তারই যোগ্য নেতৃত্বে নবীন-প্রবীণের সংমিশ্রনে সংগঠন ফিরে পেয়েছে নব চেতনা,নবরূপ । লক্ষ্য,যেতে হবে বহুদূর। পাড়ি দিতে হবে বহু বন্ধুর পথ।

লিখক ,
প্রবীন সাংবাদিক শফিকুল কাদির

ভালো লাগলে এই পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই কেটাগরির আরো খবর

MD

Customized BY NewsTheme